:

খাদ্য ভেজাল: চট্টগ্রামে হাইওয়ে সুইটসকে ৮ লাখ এবং ওয়েল ফুডসকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

top-news

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে হাইওয়ে সুইটসকে ৮ লাখ এবং ওয়েল ফুডসকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়, খাদ্য উৎপাদন এবং বিপননে জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

নগরীর মাঝিরঘাট, গোসাইলডাঙ্গা ও কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। 

অভিযানে মাঝিরঘাটের এইচ কে ফুড অ্যান্ড বেভারেজে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মাইক্রোবায়োলজিস্টের সিল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মালিক আব্দুর রায়হান রাজুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ম্যানেজার মো. আব্দুল গণিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গোসাইলডাঙ্গার মেসার্স মাস্টার ফুডস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পঁচা ও পোকাযুক্ত ডিম ব্যবহার, ইঁদুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ, শ্রমিকদের ধূমপান এবং লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে মালিক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী মো. আইয়ুব ও কারিগর মো. হেলালকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যেসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে, জ্বালানীসহ ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকেট এবং অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এই কর্মসুচি পালন করা হয়। 

কর্মসুচিতে যোগ দিয়ে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারের নিত্যপণ্যের বাজার তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিতদের নিরবতার কারনে একশ্রেণীলর অসাধু ব্যবসায়ী আর আট দশটি নিত্যপণ্যের ন্যায় ভোজ্যতেল ও জ্বালানী তেল নিয়ে কারসাজিতে লিপ্ত। নানা ছলছাতুরীর মাধ্যমে তারা সরকারকে বোকা বানিয়ে নানা বাহনা তুলে মানুষে জিম্মি করে পকেট কাটাছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনজীবনকে যুদ্ধাংদেহী পরিস্থিতি তৈরী করেছে। তারা প্রতিনিয়তই এধরনের কারসাজির মাধ্যমে অতি মুনাফা করে বিপুল পরিমান টাকা বিদেশে পাচার করেছে, এসরকারের আমলেও আরএকটি গ্রুপ একই কায়দায় অতিমুনাফা করার জন্য দেশব্যাপী ভোজ্যতেল, জ্বালানী তেল মজুদ করে খুচরা বাজারে সংকট তৈরি করেছে। যার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  আর অক্টেন দেশে উৎপাদিত হলেও পেট্রোল পাম্পের মাালিক ও ডিপোর মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরী করে ডিজেল অকটকেনসহ সব ধরনের জ্বালানী নিয়ে সংকট তৈরীর করে সারাদেশে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করেছে। জনগনের স্বার্থ বাদ দিয়ে সরকারের জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এ সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

 ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন ভূল তথ্য প্রদান করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের পরিবর্তে জামই আদর করতে পরামর্শ প্রদান করছেন। আর ব্য্যবসায়ীরা এ সুযোগে আগের মতো মানুষের পকেট কাটতে বসে আছেন। কিভাবে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা যায় সে চিন্তায় আছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাব চট্টগ্রাম অতীতেও ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন, ভবিষ্যতেও যে কোন সংকটে জনগনকে সাথে নিয়ে রাজপথে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে।

তিনি অতি দ্রুত বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। নাহলে পরিনাম শুভ হবে না। মানবন্ধনে ক্যাব চট্টগ্রামের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, যুব ক্যাবসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *